ভূমি সংক্রান্ত সহায়তার জন্য
কল করুন- 16122
ভূমি মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করুন
অফিসের ঠিকানা:
ভুমি মন্ত্রণালয় ভবন – ৪, ফ্লোর – ৩ বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা-১০০০ বাংলাদেশ
ফ্যাক্স:
প্রশাসন শাখা: ৯৫৪০৮৮৩ সচিবের দপ্তর: ৯৫৭৭৩৪৪:
dlrms.land.gov.bd তে খতিয়ান পাওয়ার জন্য নতুনভাবে বাংলাদেশ সরকার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। আপনারা সকলেই জানেন যে, dlrms নামের নতুন ওয়েব ভার্সন সাফটয়্যার বানানোর পূর্বে জনগণ eporcha.gov.bd নামের ওয়েবসাইট থেকে সকল ধরণের খতিয়ান সরবরাহ করতে পারতেন কিন্তু গত ২৮ নভেম্বর ২০২৪ খ্রি. তারিখ থেকে পূর্বের ওয়েবসাইট বন্ধ হয়ে যায় অর্থাৎ আগের সাইট থেকে খতিয়ান গ্রহণ করা যাবেনা মর্মে নোটিশ দেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে সরকারের ঘোষণানুযায়ী নতুন ওয়েবসাইট থেকে খতিয়ান সংগ্রহ করার জন্য ০১ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখ থেকে নতুন ওয়েবসাইট থেকে খতিয়ান সংগ্রহ করার জন্য সকল সরকারি-বেসরকারি অফিসে প্রচার প্রচারণা করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় ভূমি মন্ত্রণালয় ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখ থেকে নতুন ওয়েবসাইট dlrms.land.gov.bd থেকে ইউজার আইডি খোলার মাধ্যমে নতুনভাবে জনগণ খতিয়ানের আবেদন করতে পারছেন।
আমি এখানে আপনাদের জন্য নতুন পদ্ধতিতে কিভাবে dlrms.land.gov.bd থেকে আপনাদের সিএস, এসএ এবং আরএস খতিয়ান আবেদনের মাধ্যমে সংগ্রহ করবেন সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। আপনাদের বুঝার সুবিধার্থে আমি এখানে ঐ সাইট থেকে লাইভ আবেদনের মাধ্যমে ছবি সংগ্রহ করে দেখাবো।
কিভাবে খতিয়ানের জন্য আবেদন করবেন?
আমি dlrms.land.gov.bd ওয়েবসাইটে সিএস, এসএ, আরএস খতিয়ান নেওয়ার জন্য যেভাবে আবেদন করবেন তা সম্পর্কে আলোচনা করব। আপনারা সকলেই জানেন যে ভূমি মন্ত্রণালয় নতুন ওয়েবসাইট শুরু/ চালু করার পর খতিয়ান নেওয়ার জন্য ব্যবহারকারীকে নতুনভাবে land.gov.bd তে একাউন্ট করার মাধ্যেম খতিয়ান সংগ্রহ করার জন্য অনুমতি দিয়েছে। তাই আগের মত সিস্টেমে খতিয়ান আবেদন করতে পারবেন না। তবে সিস্টেমটা আরো সহজ হয়েছে। আমি আপনাদের সুবিধার্থে নিম্নে ধাপে ধাপে খতিয়ান নেওয়ার জন্য নতুন একাউন্ট করা থেকে আবেদন করা দেখাবো ইনশাআল্লাহ্।
dlrms.land.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে সিএস, এসএ এবং আরএস খতিয়ান নেওয়ার জন্য প্রথমে আপনাকে land.gov.bd তে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। রেজিস্ট্রেশন করার জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের হোমপেজে গিয়ে ডান পাশে উপরে “লগইন” বাটনে ক্লিক দিলে ড্রপ ডাউন মেনুতে ০৩ টি অপশন আসবে।
এখানে রেজিস্ট্রেশন বাটনে ক্লিক দিলে নিম্নের ০৩ টি বাটন আসবে।
- রেজিস্ট্রেশন
- নাগরিক/সংস্থা
- প্রশাসনিক

- প্রথমে নাম লিখুন (ইংলিশে)
- এরপর মোবাইল বা ইমেল এড্রেস দিন
- সঠিকভাবে ক্যাপচা দিন
- এবং এরপরে সাবমিট বাটনে ক্লিক দিলে আপনার নাম্বারে একটি ওটিপি যাবে।
- ওটিপি দেওয়ার পর আপনাকে পরের পেইজে পাসওয়ার্ড সেট করতে বলবে। সেটা দিয়ে সাবমিট বাটনে ক্লিক দিলেই রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়ে যাবে।
dlrms.land.gov.bd ওয়েবসাইটে লগইন প্রক্রিয়াঃ
লগইন করার জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের হোমপেজে গিয়ে ডান পাশে উপরে “লগইন” বাটনে ক্লিক দিলে ড্রপ ডাউন মেনুতে ০৩ টি অপশন আসবে।
এখানে লগিন বাটনে ক্লিক দিলে https://lsg-land-owner.land.gov.bd/login এই এড্রেস ওপেন হবে নতুন ট্যাবে।

- মোবাইল অথবা ইমেলে ক্লিক দিন
- মোবাইল নাম্বার/ ইমেল দিন
- ক্যাপচা পুরণ করুন
- লগিন বাটনে ক্লিক দিন
প্রোফাইল ১০০% আপডেটকরণঃ

dlrms.land.gov.bd তে পাসওয়ার্ড পরিবর্তনঃ
- ০১. মূল প্রোফাইলে ঢুকে ড্যাশবোর্ড থেকে
- ০২. ভূমি মন্ত্রণালয়ের লগিন পেইজে গিয়ে “forgot password” বাটনে ক্লিক দিলে আপনার পাসওয়ার্ড রিকোভার করতে পারবেন।
যেভাবে খতিয়ানের জন্য আবেদন করবেনঃ
- মিউটেশন
- ভূমি উন্নয়ন কর
- ভূমি ও রেকর্ড ম্যাপ
- ভূমি অধিগ্রহন ও হুকুমদখল
- ইজারা ও বন্দোবস্ত
- ভূমি নকশা
- ভূমি রাজস্ব মামলা
- ভূমি তথ্য ব্যাংক

নিচের ঘরে অর্ডার রেফারেন্স নাম্বার দিয়ে “অনুসন্ধান” বাটনে ক্লিক দিলেই আপনার খতিয়ানের অবস্থান জানতে পারবেন।
সিএস খতিয়ান আবেদনের নিয়মঃ
আমরা এখন জানব সিএস খতিয়ান নেওয়ার নিয়ম। সিএস খতিয়ান হলো ১৮৮৮ সাল থেকে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ শাসনকালে যে জমির প্রস্তুত করে জমির প্রতিটি মালিকের জন্য জমিটির দাগ নম্বর উল্লেখ করা থাকত তাই সিএস খতিয়ান হিসেবে পরিচিত। অনেকেই এই সিএস খতিয়ানকে ১৯২০ সালের খতিয়ান হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকেন কিন্তু ইহাকে ১৯২০ সালের খতিয়ান বলেনা।
আমরা যেহেতু সার্ভে খতিয়ানের জন্য আবেদন করব তাই প্রথমত সার্ভে খতিয়ান এ ক্লিক দিয়ে নিচ থেকে ভালভাবে নির্বাচন করে সিএস খতিয়ানের জন্য আবেদন করতে পারবেন। নিচের পদ্ধতি অনুসরণ করে সিএস খতিয়ানের জন্য আমরা আবেদন করতে পারব।
আমি এখানে রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ জেলার সিএস খতিয়ান আবেদন করে দেখিয়েছি।
সিএস খতিয়ান আবেদন করার জন্য নিম্নের কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করুন।
- যেকোন বিভাগের জেলার সিএস খতিয়ান আবেদনের জন্য প্রথমত আপনাকে বিভাগ নির্বাচন করতে হবে।
- এরপর ঐ বিভাগের অধীনে থাকা জেলা নির্বাচন করুন।
- পরের ধাপে উপজেলা বা থানা সিলেক্ট করুন।
- আপনি যেহেতু সিএস খতিয়ান নিতে চান তাহলে আপনাকে পরের ট্যাবে সিএস খতিয়ান চাপতে হবে।
- এরপর আপনাকে আপনার মৌজা বা মৌজা নাম্বার নির্বাচন করতে হবে।
- এখন এখানে আপনার খতিয়ানের নাম্বারদিয়ে সার্চ করতে হবে। এখানে কিছু কথা না বললেই নয়, তা হলো- এখানে আপনি যদি খতিয়ান নাম্বার জানেন তাহলে তা দিয়েই সার্চ করুন। আপনি যদি খতিয়ান নাম্বার না জানেন তাহলে আপনি এখানে “অধিকতর অনুসন্ধান” মেনুতে ক্লিক করে মালিকের নাম না দিলেও চলবে এবং জমিটির দাগ নাম্বার দিয়ে সার্চ করতে পারবেন। সেখানে শুধু দাগ নাম্বার দিলেই হবে।
মনে করেন আমি ১৪৬ নং খতিয়ান দিয়ে সার্চ দিলাম। এখানে আপনার নাম আসবে যদি সব নাম ঠিকানা সঠিক হয় তাহলে তার উপর ডাবল ক্লিক করতে হবে। ডাবল ক্লিক করলে নিচের মত ইমেজ আসবে।
উক্ত ইমেজে সব ঠিক থাকলে নিচে “ঝুড়িতে রাখুন” বাটনে ক্লিক দিন।
“ঝুড়িতে রাখুন” বাটনে ক্লিক দেওয়ার অর্থ হলো আপনি এই খতিয়ান আবেদনের টাকা পরিশোধ করতে হবে। যখনই ঝুড়িতে রাখবেন তখন “খতিয়ানটি ঝুড়িতে রাখা হয়েছে” মর্মে বার্তা দিবে উপরে ডান কোণায়।
সেখানে দেখবেন ঝুড়ির মত একটা আইকন আছে সেখানে ১ লেখা থাকবে। তার মানে আপনি একটি খতিয়ান পেমেন্ট করার জন্য ঝুড়িতে রেখেছেন।
এখন আপনি ঐ ঝুড়িতে রাখা খতিয়ানটির জন্য পেমেন্ট করবেন। তাহলে ঝুড়ি আইকনে ক্লিক দিলে নিচের মত পেইজ আসবে। সেখানে খতিতানটি সিলেক্ট করে সবার নিচে পেমেন্ট দিন বাটোনে ক্লিক দিলে নতুন পেজ আসবে। ঐখান থেকে মোবাইল ব্যাংকিং বা ব্যাংক থেকে সিএস খতিয়ান আবেদনের পেমেন্ট প্রদান করতে পারবেন।
এখানে কয়েকটি বিষয় লক্ষণীয় রয়েছে আর তা হলো আপনি সিএস খতিয়ানটি তৎক্ষণাৎ নিতে চান আপনাকে “অনলাইন কপি” এর রেডিও বাটনে ক্লিক দিয়ে চেকআউট বাটনে ক্লিক দিতে হবে।
আর আপনি যদি সার্টিফাইড কপি নিতে চান তাহলে “সার্টিফাইড কপি” এর রেডিও বাটনে ক্লিক দিয়ে চেকআউট বাটনে ক্লিক দিতে হবে। এই অপশন ডিফল্টভাবে থাকবে। আপনি সার্টিফাইড কপি নিতে চাইলে আর কোথাও ক্লিক দিতে হবে না।
সার্টিফাইড কপি এবং অনলাইন কপির মধ্যে পার্থক্যঃ
সার্টিফাইড কপি এবং অনলাইন কপির মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে।
সার্টিফাইড কপিঃ আপনি যে জেলার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রেকর্ড রুমে খতিয়ানটি নিতে চান সেখানকার অফিস সহকারী এবং সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক স্বাক্ষরিত মেইন কপিকে সার্টিফাইড কপি বলা হয়।
অনলাইন কপিঃ আপনি যদি ঐ খতিয়ানটি তৎক্ষণাৎ নিতে চান তখন অনলাইনে পেমেন্ট করার সাথে সাথে খসড়া খতিয়ানের জলচাপ সম্বলিত একটা কপি আপনাকে ডাউনলোড করার পারমিশন দিবে আর সেটাই হলো অনলাইন কপি।
খতিয়ান নেওয়ার জন্য পেমেন্ট পদ্ধতিঃ
আমরা উপরের “চেকআউট করুন” বাটনে ক্লিক দেওয়ার পর নিচের মত পেইজ ওপেন হবে। আপনি যদি নিচের ছবিতে খেয়াল করেন তাহলে সিএস খতিয়ানের আবেদন ফর্ম আপনার সম্মুখে হাজির হবে।
খতিয়ান আবেদন ফর্ম
নওগাঁ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়
- ০১. আপনি যে খতিয়ানের আবেদন করেছেন সেটা উল্লেখ থাকবে।
- ০২. আপনি যেহেতু পূর্বের চেকআউট পেইজে “সার্টিফাইড কপি” নেওয়ার জন্য ক্লিক দিয়েছিলেন তাই এখানে আবেদনের ধরণ “সার্টিফাইড কপি উল্লেখ আছে।
- সেবা প্রদানের পদ্ধতি অর্থ হলো যে আপনি কি পদ্ধতিতে খতিয়ানটি নিতে চান।
সেবা প্রদানের তথ্যাদি
উক্ত খতিয়ান প্রদানের সময়সীমা- ৭দিন
আবেদনের তারিখ থেকে সম্ভাব্য প্রদানের তারিখ- ০৬-০১-২০২৫
অর্থাৎ একটি খতিয়ানের জন্য আপনাকে ১০০ টাকা পেমেন্ট দিতে হবে।
- এরপর ফি প্রদানের মাধ্যমে “Ekpay” অটো সিলেক্ট করা থাকবে।
- যোগফল প্রদান করে ফি পরিশোধ করুনে ক্লিক দিলে পেমেন্ট দেওয়ার পেইজ ওপেন হবে।
এখানে আপনি যদি “Mobile Banking” এর মাধ্যমে পেমেন্ট দিতে চান তাহলে সেটা নির্বাচন করে নিচে বিকাশ। নগদ, রকেট নির্বাচন করে “By continuing, you agree to our Terms and Conditions” এর রেডিও বাটনে ক্লিক দিয়ে “Pay” বাটনে ক্লিক দিতে হবে।
ক্লিক দেওয়ার পর নিচের মত পেইজ ওপেন হবে।
এখানে আপনার সচল এবং যে বিকাশ নাম্বারে সর্বনিম্ন ১০০ টাকা আছে সেই নাম্বার এখানে দিলে আপনার নাম্বারে একটা ওটিপি যাবে। সেটা দেওয়ার পর আপনার পিন কোড দিলেই টাকা পরিশোধ করা হয়ে যাবে এবং এরপর একটা সিসিভড কপি ডাউনলোড বা প্রিন্ট করার জন্য বলবে। এই কাজ গুলো করলেই আপনার সিএস খতিয়ান আবেদন করা হয়ে যাবে।
dlrms.land.gov.bd কি?
বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনা ঐতিহাসিকভাবে জটিল এবং সময়সাপেক্ষ একটি ক্ষেত্র। অনেক ক্ষেত্রে এর সাথে দুর্নীতি, জালিয়াতি এবং দীর্ঘসূত্রিতা যুক্ত ছিল। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য এবং জনগণকে সহজ ও স্বচ্ছ সেবা প্রদান করার লক্ষ্যে সরকার ডিজিটাল ল্যান্ড রেকর্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (DLRMS) চালু করেছে। এটি বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে রূপান্তরিত করার একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
ডিজিটাল ল্যান্ড রেকর্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (DLRMS), বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও স্বচ্ছ করার একটি ডিজিটাল উদ্যোগ। এটি ভূমি মালিকানা, রেকর্ড সংরক্ষণ এবং সেবার প্রাপ্তি সহজতর করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। DLRMS প্ল্যাটফর্মটি সরাসরি অনলাইনে নাগরিকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমি তথ্য এবং পরিষেবা প্রদান করে।
ডিজিটাল ল্যান্ড রেকর্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (DLRMS), https://dlrms.land.gov.bd/ ওয়েবসাইটটি বাংলাদেশের ভূমি সংক্রান্ত তথ্য ও পরিষেবা ডিজিটাল করার জন্য একটি আধুনিক প্ল্যাটফর্ম। এই উদ্যোগ ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, দক্ষতা এবং নির্ভুলতা আনার লক্ষ্যে চালু করা হয়েছে।
DLRMS প্ল্যাটফর্মটি নাগরিকদের অনলাইন পদ্ধতিতে ভূমি মালিকানার তথ্য, জমি নকশা, এবং মিউটেশনের রেকর্ড সরাসরি দেখার সুযোগ দেয়। আগে যেখানে ভূমি সংক্রান্ত তথ্য পেতে দীর্ঘ সময় এবং জটিল প্রক্রিয়ার সম্মুখীন হতে হতো, এই সিস্টেম সেই প্রক্রিয়া সহজ করে দিয়েছে। এছাড়া, এটি ভূমি সংক্রান্ত প্রতারণা এবং মালিকানা নিয়ে বিরোধ কমাতেও সাহায্য করে।
এই উদ্যোগ সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ ভিশনের একটি অংশ। এর মাধ্যমে, সরকারি ভূমি অফিসে সরাসরি যোগাযোগ ছাড়াই নাগরিকরা অনলাইনেই তাদের প্রয়োজনীয় সেবা নিতে পারেন। এতে সময় সাশ্রয় হয় এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।
DLRMS প্ল্যাটফর্মটি ভূমি ব্যবস্থাপনার জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এটি শুধু নাগরিক সেবা উন্নত করাই নয়, ভূমি ব্যবস্থাপনার দীর্ঘমেয়াদী সমস্যাগুলির সমাধানেও সহায়ক।
সিস্টেমটির উদ্দেশ্য
DLRMS প্ল্যাটফর্মটি ভূমি সংক্রান্ত প্রচলিত জটিলতা দূর করার লক্ষ্যে তৈরি। এটি ভূমি রেকর্ডের নির্ভুলতা নিশ্চিত করে এবং ভূমি সংক্রান্ত প্রতারণা কমায়। ভূমি মালিকানা নিয়ে বিরোধ এবং দেরি এড়িয়ে সহজ ও দ্রুত সমাধান প্রদান DLRMS-এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
সুবিধাসমূহ
১. অনলাইন সেবা প্রাপ্তি: নাগরিকরা অনলাইনে তাদের জমির রেকর্ড, নকশা এবং মিউটেশন স্ট্যাটাস পরীক্ষা করতে পারেন।
২. স্বচ্ছতা: ভূমি রেকর্ড সংরক্ষণ এবং আপডেট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
৩. সময় ও খরচ সাশ্রয়: সরাসরি অফিসে না গিয়ে ঘরে বসেই সেবা পাওয়া সম্ভব।
৪. প্রতারণা রোধ: সিস্টেমটি ভূমি রেকর্ডের নির্ভুলতা বজায় রাখে, যা প্রতারণা এবং জমি দখল রোধে সহায়ক।
DLRMS-এর ভূমিকা
বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনার ইতিহাসে DLRMS একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য পূরণে ভূমিকা রাখছে। কৃষক, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ নাগরিকদের জন্য ভূমি সংক্রান্ত তথ্য ও পরিষেবা সহজলভ্য করার মাধ্যমে এটি দেশের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক অগ্রগতিতেও সহায়ক।
ভূমি ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশে ভূমি ব্যবস্থাপনায় কয়েকটি বড় সমস্যা চিরকাল বিদ্যমান ছিল:
- জমির মালিকানার সঠিক নথি সংরক্ষণে জটিলতা।
- মিউটেশন এবং ভূমি নামজারি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা।
- সরকারি ভূমি অফিসে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ।
- জমি জালিয়াতি ও প্রতারণা।
এই সমস্যাগুলি দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। DLRMS এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করেছে।
DLRMS কী এবং এর কার্যকারিতা
ডিজিটাল ল্যান্ড রেকর্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম যা ভূমি সম্পর্কিত তথ্য ও সেবা সরবরাহ করে। এটি https://dlrms.land.gov.bd/ ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়। এর মাধ্যমে নাগরিকরা অনলাইনেই জমির মালিকানা, নকশা এবং মিউটেশন স্ট্যাটাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেখতে পারেন।
DLRMS-এর প্রধান বৈশিষ্ট্য:
ভূমি রেকর্ডের ডিজিটাল সংরক্ষণ: জমির মালিকানা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেসে সংরক্ষিত হয়।
অনলাইন মিউটেশন সেবা: মিউটেশন বা নামজারি প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন করা যায়, যা সময় ও অর্থ সাশ্রয় করে।
নাগরিকদের সরাসরি অ্যাক্সেস: সিস্টেমটি নাগরিকদের ভূমি অফিসে না গিয়ে ঘরে বসেই সেবা পাওয়ার সুযোগ দেয়।
নির্ভুল তথ্য: ভূমি রেকর্ডে তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করা হয়েছে, যা জমি জালিয়াতি কমাতে সহায়ক।
নাগরিকদের জন্য সুবিধা:
DLRMS নাগরিকদের জন্য ভূমি সংক্রান্ত সেবা সহজতর করেছে। আগে যেখানে ভূমি রেকর্ডের জন্য অফিসে ঘুরতে হতো, এখন তা অনলাইনে হাতের মুঠোয়। এর মাধ্যমে নাগরিকরা পেতে পারেন:
নির্ভুল তথ্য: জমির প্রকৃত মালিকানা এবং ইতিহাস অনলাইনে দেখতে পারা।
সময় বাঁচানো: নামজারি ও অন্যান্য প্রক্রিয়ায় সময়ের অপচয় কমেছে।
স্বচ্ছতা নিশ্চিত: দুর্নীতির ঝুঁকি কমেছে কারণ সিস্টেমটি সরাসরি নাগরিকদের সেবা দেয়।
DLRMS-এর প্রভাব:
DLRMS ভূমি ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। এটি দেশের সামগ্রিক ভূমি ব্যবস্থাপনার উন্নতিতে সহায়ক হয়েছে। বিশেষ করে:
ভূমি জালিয়াতি রোধে এটি কার্যকরী ভূমিকা পালন করছে।
সরকারি রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পাচ্ছে কারণ ভূমি ব্যবস্থাপনার দুর্নীতি হ্রাস পেয়েছে।
ভূমি অফিসের ওপর চাপ কমেছে, যা কর্মীদের আরও দক্ষতার সাথে কাজ করতে সহায়তা করেছে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা:
DLRMS-এর সফলতা প্রমাণ করে যে প্রযুক্তি নির্ভরতা ভূমি ব্যবস্থাপনায় টেকসই পরিবর্তন আনতে পারে। ভবিষ্যতে, এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে:
দেশের সকল ভূমি নথি একীভূত করা সম্ভব হবে।
মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে আরও সহজ সেবা প্রদান করা হবে।
ভূমি ব্যবস্থাপনায় জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সিস্টেম (GIS) ইন্টিগ্রেট করা হবে, যা জমির সঠিক অবস্থান এবং ব্যবহার সম্পর্কে আরও ভালো তথ্য দেবে।
উপসংহার:
ডিজিটাল ল্যান্ড রেকর্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (DLRMS) বাংলাদেশে ভূমি ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এটি সঠিক এবং স্বচ্ছ সেবা নিশ্চিত করে নাগরিকদের জীবনকে সহজতর করেছে। DLRMS-এর সফলতা শুধুমাত্র প্রযুক্তির প্রয়োগ নয়, বরং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের একটি প্রতীক। বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনার ইতিহাসে এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ, যা ভবিষ্যতে আরও উন্নত হবে।
আপনার জমি সংক্রান্ত তথ্য জানতে বা সেবা পেতে ভিজিট করুন DLRMS।